ইসরায়েলের মাথাব্যথা BDS মুভমেন্টঃ আন্দোলন প্রতিরোধে ইসরায়েলের কঠোর পদক্ষেপ
ইসরায়েলের মানবাধিকার লংঘন ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধেপশ্চিম ইউরোপের অবস্থানরত একদল ফিলিস্তিনি এক্টিভিস্ট বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো শুরু করে যার মূললক্ষ্য থাকে বিশ্ব হতে ইসরায়েলকে বয়কট (Boycott), পরিত্যাগ (Divestment), এবং অর্থনৈতিক অবরোধ (Sanctions) করা, যার সামষ্টিক রূপ হল BDS মুভমেন্ট। শুরুর পরপরই এই মুভমেন্ট বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়- বিশেষত পশ্চিমা দুনিয়ায়।
BDS মুভমেন্টের শুরুর দিকটায় তেমন গুরুত্ব না দিলেও, সময়ের
সাথে সাথে পশ্চিমা বিশ্বে প্রো-ইসরাইলি গবেষক ও একাডেমিকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন।
২০১০ সালে বহিঃর বিশ্বে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রেউত ইন্সটিটিউশন এই
মুভমেন্ট যে ধীরে ধীরে ইসরাইল রাষ্ট্রের আইনগত বৈধতায় বড় বাধা হতে পারে তা ইসরাইল সরকারের
নিকট প্রকাশ করেন। বহিঃর বিশ্বে ইসরাইলের প্রকৃত হুমকি হিসেবে এর আবির্ভাব ঘটেছে তাও
উল্ল্যেখ করেন। অবশেষে ২০১৪ সালে, ইসরাইল অফিসিয়ালি BDS মুভমেন্টকে তাদের রাষ্ট্রের
বৈধতার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ও ক্লাসিকাল Anti-Semetic মনোভাবের দৃষ্টান্ত
হিসেবে চিহ্নিত করেন।
BDS মুভমেন্টকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরে, বিশেষত ডানপন্থী
জায়নদের মধ্যে প্রচন্ড রকমের বিরোধিতা দেখা যায়। ২০১৫ সালে নেতানিয়াহুর সরকার একটি
তদন্ত কমিশন গঠন করেন এই আন্দোলনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও কুটনৈতিক ক্ষতি কতটা ধ্বংসাত্মক
হতে পারে ইসরায়েলের জন্য তা নিরুপনে। ২০১৫ সালে দি গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন
যে ফিলিস্তিন একটিভিস্টদের পরিচালিত এই বয়কট, পরিত্যাগ ও অর্থনৈতিক অবরোধ প্রচারণা
মারাত্মকভাবে ইসরাইল ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ক্ষতি করছে, এবং নেতানিয়াহু দাবী
করেন এর পিছনে পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগাচ্ছে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হামাস। ২০১৬ র
সেপ্টেম্বরে ইস্রাইলের বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আয়েলেত শেকেড, BDS মুভমেন্টকে সন্ত্রাসবাদের
একটি শাখা হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও ইস্রাইলের বিভিন্ন মন্ত্রানলয়ে এই আন্দোলনকে
বিচিত্রভাবে সংজ্ঞায়নের চেষ্টা করেছেন। ঠিক এই লম্বা সময়ে যতবারই ইসরায়েল গাজায় হামলা
চালিয়েছে ততবারই এই মুভমেন্ট আরো বেশী চাঙ্গা হয়েছে।
ধীরে ধীরে পশ্চিমা বিশ্বে ইসরাইলি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যেক্তিবর্গের
আসাকে কেন্দ্র করে রেগুলার মুভমেন্ট চলত। ফলে ইসরাইল আর চুপ না থেকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে
উদ্যত হয়। যেমনঃ ২০১৬ তে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে
দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই মুভমেন্টকে ইসরাইল বৈধ উপায়েই প্রতিহত করবে। ঠিক ঐবছরই
ইসরায়েল সরকারের পক্ষ হতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয় BDS মুভমেন্টের বিপক্ষে শক্ত
ভিত তৈরি করতে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা সাইবার প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
পরবর্তীতে কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানি দল ইস্রাইলি
কূটনীতিবিদেরা কিভাবে যুক্তরাজ্যের সাইবারকে এই মুভমেন্ট দমনে কাজে লাগিয়েছে তা প্রকাশ
করেন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রানলায় Global Forum For
Combating Anti-Semitism (GFCA) নামে একটি দ্বি-বার্ষিক ফোরামের আয়োজন করেন। ফোরামে
অনেক প্রো-ইসরাইলি গবেষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় একটাই উদ্দেশ্যে- কিভাবে BDS মুভমেন্টকে
দমিয়ে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবীকে নস্যাৎ করা যায়। ৪ বছর পর, BDS and Delegitimisation
Task Force” নামে একটি কার্য-পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। এই ফোর্সের মূল দায়িত্বই হবে
যেসব দেশে এই অহিংস আন্দোলন চলছে সেখানকার রাষ্ট্রীয় আইনের নিরিখে এই অহিংস আন্দোলনকে
একটি সহিংস ও বৈষম্যমূলক মুভমেন্ট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা। AFP পত্রিকার মতে, এক্ষেত্রে
ইসরায়েল জন-সমর্থন আদায় না করে মুভমেন্টটাকে দমানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে।
২০১৬ সালে ইসরায়েলের প্রতিনিধি জাতিসংঘে জোর আপত্তি জানায় এই আন্দোলন মূলত ইসরাইল রাষ্ট্রের
ভাবমুর্তিতে অনেক বড় আঘাত হানছে যা সম্পূর্ণই বে-আইনি। অবশেষে, ২০১৮ সালে এই মুভমেন্টকে ইসরাইল একটি সন্ত্রাসবাদী আচারণ হিসেবে অফিসিয়ালি গ্রহণ করে-এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি
দেন।
যাইহোক, পশ্চিমা ইউরোপে বেশি একটি সুবিধা না করতে পারলেও
যে পরিমান অর্থ ইসরাইলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রে ঢেলেছিল এবং তাদের যে ঐতিহাসিক জিউস লবি সেখানে রয়েছে তা রাজনৈতিক ব্যবস্থা, প্রধান মিডিয়া এবং অন্যান্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানকে
বাধ্য করেছে ইসরাইলের Anti-BDS মুভমেন্টকে বড় আকারে প্রমোট করতে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে
BDS মুভমেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন মিত্যা তথ্য-গুজব-অপপ্রচার ছড়ানো হয়। BDS মুভমেন্টকে ঘিরে
যে ইতিবাচক একটি প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছিলো তাতে ঘুণ ধরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়।
পাশাপাশি মুভমেন্ট বিরোধি বিভিন্ন আইনের খসড়া তৈরি হয় এবং অসংখ্য এক্টিভিস্টদের বিভিন্ন
ভয়ভীতি প্রদান করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্বচ্ছ বিচার-ব্যবস্থার দরুন ইস্রাইলের
এই আক্রমনাত্মক নীতি অনেকাংশে ব্যর্থ হয়।
এই অহিংস আন্দোলনের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো, ইসরাইল থেকে
প্রো-ইসরাইল গোষ্ঠীর উপর চাপ তত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি ২০১৬ সালে ৬০ জন কংগ্রেস সদস্য
BDS মুভমেন্টকে সমর্থন প্রদান করেন এবং ইরানের পারমাণবিক চুক্তিকে নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের
অভ্যন্তরীন আলোচনাকে রুখে দেন, যেটা আসলেই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত জিউস লবির বিপক্ষে
এক অসামান্য পদক্ষেপ।
এই ঘটনাইয় ইহুদী লবি খুব নাখোশ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের
উপর চাপ অব্যহত রাখে, এবং সৌভাগ্যবশত এবার ক্ষমতায় ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের
সুবাদে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করা হয় যার মূল কথা- যে
সকল নাগরিক এবং কম্পানি BDS মুভমেন্টে কোন ধরণের অংশগ্রহণ করবে তাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের
নিষেধাজ্ঞা বহাল হবে, এমনকি এই লিস্টে জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাম ও উল্লেখ করা
হয় হয়েছে। কিন্তু বিলটি বিভিন্ন মহলের সমালোচনায় ধোপে টেকে নি। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের
সর্ববৃহৎ মানবাধিকার সংস্থা American Civil Liberties Union (ACLU) এই ধরণের অগণতান্ত্রিক
ও বৈষম্যমূলক বিলের বিপক্ষে প্রচন্ড সমালোনা করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, যেসকল বানিজ্যিক
প্রতিষ্ঠানকে জাতিসঙ্ঘ ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন-
সেই ২০৬ টি বৃহৎ কোম্পানিই এই বিলটি উত্থাপন করতে জোর চাপ প্রদান করেছে। উল্লেখ্য জাতিসঙ্ঘ
বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিন্তু কখনোই বলেনি যে ইস্রাইলকে বয়কট করতে হবে-পক্ষান্তরে তারা
সেই সকল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নাম প্রকাশ করেছে যারা অবৈধ স্থাপনার সাথে যুক্ত। জাতিসঙ্ঘের
মানবাধিকার কমিশন বলেছে এই বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোই ঐ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতাকে উস্কে
দিচ্ছে- শান্তি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে।
তাই এদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি।
BDS মুভমেন্ট প্রতিরোধে
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইসরায়েল অনেক চেষ্টাই করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার
সংস্থার প্রভাবে জন্য যখন BDS মুভমেন্টকে অবৈধ ঘোষণার কোন আইনি ভিত ইস্রায়েল পেল না,
তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-ইস্রাইলি সমর্থকরা মুভমেন্টের সমর্থকদের উপর নানাবিধ- শারীরিক,
মানসিক এবং আইনি আক্রমণ শুরু করল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর উপর এই হামলা ক্যাম্পাসে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করল, এবং হামলার সাথে আমেরিকার Zionist দলগুলো, বিভিন্ন সরকারি নির্বাচিত কর্মকর্তারা- এমনকি ক্যাম্পাস প্রশাসনেরও অনেকে জড়িত ছিল। এরা সকলে মিলে এই মুভমেন্টকে anti-Semitic আচারণ এবং ক্যাম্পাসের নৈরাজ্যকে anti-Semitic Violation হিসেবে মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো শুরু করে। অনেক সময় সরকারি অফিসিয়ালরা কিছু টার্গেট করা আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে- সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে দিয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে “Irvin 11” কে উল্লেখ করা যায়। ২০১০ সালে ক্যালেফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইস্রাইলি রাষ্ট্রদূত আমন্ত্রনের প্রতিবাদ করায় ১১ জন মুসলিম শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়- পাশাপাশি রাজ্য এটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে তাদের বিপক্ষে সন্ত্রাসবাদের দোষ আরোপ করা হয়, এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। অনেক ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা চেষ্টা করেও সাজা মওকুফ করাতে পারেনি। এই ঘটনাটি সামগ্রিক মুভমেন্টের উপর দারুণ প্রভাব ফেলে- বিশেষত, বিদেশী শিক্ষার্থীদের উপর।
আরো একটা উদাহরণ দেখা যাক, ২০১৩ সালে ব্রুকলিন কলেজ BDS মুভমেন্টের শীর্ষ দুই ব্যাক্তি Judith Butler ও Omar Barghouti কে নিয়ে BDS মুভমেন্টের উপর একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে ,এবং ইভেন্টটি সমগ্র নিউইয়র্কে খুব সাড়া ফেলে দেয়। এই আলোচনাটি বন্ধ করতে প্রো-ইসরাইলি বিভিন্ন প্রফেসর মানববন্ধন করেন, স্থানীয় অফিসিয়াল ও বিভিন্ন ফান্ডিং এজেন্সীগুলো New York City University
কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে থাকে যে যদি আলোচনাটি হয়, তবে সকল ধরনের আর্থিক সহয়তা বন্ধ করে দেয়া হবে। অবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এছাড়াও আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে কিভাবে ইসরায়েলি লবি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ দিয়ে মুভমেন্টটিকে বানচাল করতে চেয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে প্রো-ইসরাইলি সমর্থকরা মুভমেন্টে অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি সন্ত্রাসবাদ ট্যাগে না জড়িয়ে বরং চরম ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মুভমেন্টকে দমানোর চেষ্টা করেছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কনসারভেটিভ পার্টি ঘোষণা করেন- তার সরকার নতুন আইন করতে যাচ্ছে যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ইস্রাইলকে বয়কট ও পরিত্যাগের প্ররোচনায় নিয়োজিত কর্মী ও সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। BDS মুভমেন্টের পক্ষে আইনগত যুক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে মুভমেন্টের পক্ষে পরিচালিত হওয়া ইতিবাচক প্রচারণা পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মুভমেন্টের পক্ষে মতামত- ক্যামেরনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। যুক্তরাজ্যের বাহিরে শুধুমাত্র ফ্রান্স রাষ্ট্রীয়ভাবে মুভমেন্টের সমর্থকদের শাস্তির ঘোষণা করে ইসরায়েলকে অনেক সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে ফ্রান্স BDS মুভমেন্টকে বর্ণবাদের সাথে তুলনা করেন। ফ্রান্সের দীর্ঘদিন মুসলিম বিরোধী পরিবেশ এইরূপ শাস্তির বিধান প্রনয়ণ করতে সাহায্য করেছে।
স্পেনে ইস্রাইলের বর্ণবাদী কার্যক্রমের নিন্দা করে স্থানীয় প্রশাসন Pro-BDS মুভমেন্ট রেজুলেশন পাশ করেন। স্পেনের নিম্ন সংসদ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে তারা এই বয়কট ও পরিত্যগের প্রচারণাকে প্রসারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা দিবে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্ট মুভমেন্টের সহায়তা দানকারী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানার কথা বলেছে এবং এর পক্ষে নতুন রেজুলেশনও পাশ করিয়েছে। কিন্তু সাধারণ নেদারল্যান্ডসবাসী এই রেজুলেশনকে প্রত্যাক্ষান করেছেন এবং উপরন্তু বার্ষিক তাদের পেনশনের একটা বড় অংশ এই আন্দোলনের সমর্থনে তারা দান করেছেন। জার্মানি রাষ্ট্রীয়ভাবে মুভমেন্টের পক্ষে বিপক্ষে কিছুই বলেনি কারণ ইহুদিদের ক্ষেত্রে তাদের একটা বাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও ক্যাম্পাসে এই মুভমেন্ট দারুন গতিতে এগিয়েছে। এছাড়াও, ২০১৬ সালে ১৫ টি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ আন্তর্জাতিকমানের আইনজীবী এই আন্দোলনকে বাক-স্বাধীনতার দিক দিয়ে একটি আইনসিদ্ধ আন্দোলন বলেছে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, BDS মুভমেন্ট ঐতিহাসিকভাবে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মুভমেন্ট। এই আন্দোলন অনেক সফল আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ঐ সফল আন্দোলন যেমন নিষ্পেষণ ও প্রোপাগাণ্ডার শিকার হয়েছে এবং রুখে দাঁড়িয়েছে, এই মুভমেন্টের উপর ইসরায়েলের আক্রমণ কিন্তু বেড়েই চলেছে কিন্তু ঠিক একই সময়ে এই মুভমেন্টের পরিধিও বিস্তার লাভ করছে। অনেক নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান- আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে। শত চেষ্টা করেও ইস্রাইলের শক্তিশালী লবি কিছুই করে উঠতে পারছে না। অনেক গবেষকরা আন্দোলনের এই ইতিবাচক দিকটাকে বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে যে BDS মুভমেন্ট একটি সফল অহিংস আন্দোলনে রূপ নিবে সেই মতই ব্যক্ত করেছেন।
বদিরুজ্জামান
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়





No comments