Header Ads

Header ADS

আরব লীগ (Arab League): মধ্যপ্রাচ্যের নিস্ক্রিয় দর্শক

 

Arab League 

জামি'য়াত আদ-দোয়াল আল-আরাব্যিয়া অথবা "আরব লীগ" আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২২শে মার্চ ১৯৪৫ সালে। ইতিপূর্বে ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ সালের আলেকজান্দ্রিয়া প্রটোকলের মাধ্যমে সংগঠন সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে আরবের কিছু কিছু দেশ তখন সদ্য স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদের ঢেউ, অটোমান সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং আরব উপদ্বীপের নতুন নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব স্বভাবতই আরব উপদ্বীপে এক বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছিলো। 

আরবের প্রতিটি দেশের মধ্যকার সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং- সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যে আরব লীগ মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (মিশর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সৌদি আরব ও সিরিয়া) নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

আরব লীগ ভৌগোলিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার আরব ভাষাভাষী বিভিন্ন দেশের একটি আঞ্চলিক সংগঠন।

বর্তমানে আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্র ২২টি দেশ। সংগঠনটির সদর দপ্তর মিশরের কায়রো তে অবস্থিত।

সংগঠনটির বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ আবৌউল ঘেইত, ও পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার আলী আল দাক্ববাসী

আরব লীগের ৩৮তম সামিট গত ১৯শে মে, ২০২৩, সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হয়।

 

আরব লীগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

    বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংকটপূর্ণ একটি অঞ্চল।

    মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন।

    আরব লীগের একত্রে জিডিপি প্রায় সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলার (২০২২) যা পৃথিবীর ৫ম সর্বোচ্চ।

    আরবের দেশগুলোর সংকট, যুদ্ধ ও রাজনীতিতে তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর যা প্রতিনিয়ত বিশ্বরাজনীতি এবং অর্থনীতিকে পরিবর্তন করছে।

 

ইতিহাস ও আরব-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব

 

১৯৪২ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নূরি আল সাঈদ পাশা প্রথমবারের মতো একটি সম্মিলিত আরব ঐক্যের ডান দেন। তাঁরই ব্লু-বুক অনুযায়ী আরব অঞ্চলে ইহুদি সমস্যা ও এর প্রতিকার হিসেবে বৃহত্তর সিরিয় অঞ্চলের একটি যৌথ আরব জোটের পরিকল্পনা করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, আরবে ইহুদি সমস্যা ও ফিলিস্তিনিদের সংখ্যালঘুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাব্য ভয় থেকে পরিত্রাণ পেতে, একমাত্র আঞ্চলিক জোটবদ্ধতাই ফিলিস্তিনকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, ট্রান্স জর্ডান অঞ্চল সহ মোট ৬টি রাষ্ট্র  নিয়ে গঠিত হয় আরব লীগ।

আরব লীগ মাত্র ৬টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে আরবে নতুন নতুন সদ্য স্বাধীন দেশগুলো যোগ দিতে শুরু করে। যেমনঃ লিবিয়া (১৯৫৩), সুদান (১৯৫৬), তিউনিসিয়া, মরক্কো (১৯৫৮), কুয়েত (১৯৬১), আলজেরিয়া (১৯৬২), বাহরাইন, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৭১), মৌরিতানিয়া (১৯৭৩), সোমালিয়া (১৯৭৪), প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলওঃ ১৯৭৬), জিবুতি (১৯৭৭), কমরোস (১৯৯৩), এবং ইয়েমেন।

আরব লীগের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রগুলো হচ্ছেঃ ব্রাজিল, ভারত, ইরিত্রিয়া ও ভেনিজুয়েলা।

 

আরব লীগ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা নিয়ে সরব ছিলো। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনকে পার্টিশনের পরিকল্পনার বিরোধীতা করে আরব লীগ। সংগঠনটির প্রথম সক্রিয় ভূমিকা ছিলো ইসরায়েলকে বয়কট করা।

১৯৪৮ সালের ১৫ই মে, আরব লীগ শুধুমাত্র বয়কটই নয়, বরং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যা আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (১) নামে পরিচিত। ১৫ই মে আরব লীগের ৭টি দেশের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যা ১০ মার্চ ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে। যুদ্ধে ইসরায়েল জয়ী হলে, ফিলিস্তিনের ৬০% জমি দখল করে ইসরায়েল।

এপ্রিল ১৩, ১৯৫০ সালে আরব লীগের সিদ্ধান্তে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক জোটের সৃষ্টি হয়। এতে করে সংগঠনটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকই নয়, বরং সামরিক একটি জোট হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত সংগঠনটির নিজস্ব কোন বাহিনী ছিলো না। ২০০৭ এর পর সংগঠনটির উদ্যোগে স্বতন্ত্র বাহিনী গঠিত হয়, যা দার্ফুর, খার্তুম, ইরাক সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অপারেশন পরিচালনা করে।

 

১৯৬৪ সালে আরব লীগ প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) প্রতিষ্ঠা করে যাতে ফিলিস্তিনের ভেতর সংগঠনটি নজরদারি চালাতে পারে। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে আবারও পরাজয়ের পর, আরব লীগ পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা খার্তুম রেজ্যুলিউশনের  মাধ্যমে সমাপ্তি হয়। এখানে বলে রাখা ভালো, তৎকালীন সময়ে আরবে জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশ ঘটেছিলো, এবং ফিলিস্তিনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ছিলো প্রতিটি আরব রাষ্ট্রেরই। ইসরায়েলের সাথে কোনপ্রকার শান্তিচুক্তির ঘোর বিরোধীতা থাকা সত্ত্বেও, মিশর ইসরায়েলের সাথে শান্তিচুক্তিতে বসে ১৯৭৯ সালে। কেননা, মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের সেনাদের উপস্থিতি ছিল, যা মিশরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বেশ অস্বস্তির ছিলো।

এতে, আরব লীগ মিশরকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে (১৯৭৯ সালে), পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে মিশর পুনরায় আরব লীগে যোগদান করে।

এদিকে, ১৯৮৮ সালের ১৫ই নভেম্বর আরব লীগ প্যালেস্টাইন কে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়, এবং পিএলও কে এর প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করে।

১৯৯৪ সালে জর্ডানও ইসরায়েলের সাথে শান্তিচুক্তিতে বসে। যদিও, আরব লীগ জর্ডানকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করেনি।

বর্তমানে আরব লীগ ও ইসরায়েল আগের মত যুদ্ধাবস্থায় নেই। বরং, বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশই ইসরায়েলের স্বীকৃতি দিচ্ছে অথবা, শান্তি স্থাপন করে চলছে।

 

সংগঠনের সাংবিধানিক কাঠামোঃ

 

আরব লীগের সাংবিধানিক কাঠামো ২০টি মূলধারা ও ৩টি সংযুক্তি দ্বারা তৈরি। সেগুলো হলোঃ

 

১. প্রতিটি স্বাধীন সার্বভৌম আরব রাষ্টেরই আরব লীগে যোগদান করার অধিকার রয়েছে।

২. আরব লীগ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যেমনঃ কৃষি, শিল্প, মুদ্রা, সমাজ কল্যাণ, রেলপথ, সড়ক পথ ও নৌপথ, জাতীয়তা, পাসপোর্ট, ইত্যাদি।

৩. প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের দ্বারা একটি কাউন্সিল গঠিত হবে। উক্ত কাউন্সিলে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই একটি করে ভোট থাকবে। পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ভোটের প্রয়োজনীয়তা পড়বে।

৪. উল্লেখিত ২ নং ধারার জন্যে একটি বিশেষ কমিটি গ্রহণ করা হবে, যদিও বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তা এই বিশেষ কমিটির সাথে যুক্ত থেকে অথবা বাইরে থেকেও এই কমিটিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

৫. যে কোন প্রকার যুদ্ধ, সংঘর্ষ কিংবা রাষ্ট্রীয় বিবাদের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করা যাবেনা। তবে, বিবাদমান রাষ্ট্র আরব লীগের কাউন্সিলে এই বিষয়ে পরামর্শ চাইলে লীগের সদস্যের ভোট কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে দাবি উত্থাপন করতে হবে।

৬.  আরব লীগের কোন সদস্য রাষ্ট্র যদি অন্য কোন সদস্য রাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত হয় কিংবা আগ্রাসনের শিকার হয়, কিংবা হুমকির শিকার হয়- তাহলে সে জরুরি সভার অনুরোধ করতে পারে।

৭. যেসকল সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে তা সকলের মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নেয়া সিদ্ধান্তে, ভোট দেয়া সদস্যদের মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

৮. প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকতে হবে, কোন রাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের কোনরূপ চেষ্টা করা যাবেনা। 

৯. প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র অন্য সদস্য রাষ্ট্রের সাথে লীগে উল্লিখিত কোন বিষয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের কিংবা প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

১০. আরব লীগের স্থায়ী কার্যালয় হবে মিশরের কায়রো শহরে। তবে অধিবেশনের জন্য অন্যান্য স্থানও নির্বাচিত হতে পারে। (উল্লেখ্য, মিশর ১৯৭৯-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বহিস্কৃত থাকায়, আরব লীগের কার্যালয় তিউনিসিয়ার তিউনিসে স্থানান্তর করা হয়)

১১. মার্চ এবং অক্টোবরে, অর্থাৎ বাৎসরিক দুইবার কাউন্সিলের সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ অধিবেশনের জন্য নুন্যতম দুইটি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের প্রয়োজন পড়বে।

১২. সচিবালয় একজন মহাসচিব, একজন সহকারী সচিব এবং বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দ্বারা গঠিত হবে। মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নুন্যতম দুই তৃতীয়াংশের ভোট লাগবে। কাউন্সিলের পরামর্শক্রমে মহাসচিব তাঁর সহকারী সচিব নিয়োগ দিবেন। অন্যান্য সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, ও আইন সম্পূর্ণ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে নিতে হবে।

১৩. মহাসচিব প্রতি অর্থবছরের বাজেটের খসড়া কাউন্সিলের কাছে পেশ করবেন, পরবর্তীতে কাউন্সিলের ভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হবে।

১৪. লীগের প্রতিটি সদস্যবৃন্দ, সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিগণ বিভিন্ন কূটনৈতিক সুযোগসুবিধা ভোগ করবেন।

১৫. কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন মিশরের সরকার প্রধানের আহবানে অনুষ্ঠিত (হয়েছে)।

১৬. লীগ সনদের বাইরের কার্যাবলী কাউন্সিলের ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।

১৭. কোন রাষ্ট্র সেচ্ছায় লীগ ত্যাগ করতে চাইলে নূন্যতম ১ বছর আগে কাউন্সিলে অবহিত করতে হবে। তবে, কোন রাষ্ট্র যদি সংগঠন বিরোধী কোন কার্যকলাপে যুক্ত হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের মাধ্যমে উক্ত রাষ্ট্রকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে।

১৮. সদস্য রাষ্ট্র কিংবা অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যে কোন চুক্তির ক্ষেত্রে, চুক্তির কপি লীগের সচিবালয়ে জমা রাখতে হবে।

১৯. অন্যান্য সংগঠনের সাথে যে কোন যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায়, আরব লীগের বিচার ও সালিশের জন্যে নির্ধারিত বিচারালয় প্রতিষ্ঠা, ও শান্তি ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে সনদে কোন সংশোধন আনতে কাউন্সিলের দুই তৃতীয়াংশের ভোটের প্রয়োজন পড়বে।

২০. সনদটি প্রতিটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অনুমোদন করবে।

 

 

সংগঠনের সাফল্য

 

আরব লীগের সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করা। এর মধ্যে ওমান, সুদান, ও আলজেরিয়া উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পরও ফিলিস্তিনের পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠন আরব লীগ। আরব লীগের উদ্যোগেই ফিলিস্তিনের সংগঠন "প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন" (পিএলও) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ই নভেম্বর আরব লীগ, পিএলও এর আণ্ডারে প্যালেস্টাইনকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। যদিও, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের ন্যাশনাল অথরিটির স্বীকৃতি দেয়। আদতে, তা কখনই স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারেনি।

 

সংগঠনের ব্যর্থতা, ও নিস্ক্রিয়তা

 

আরব লীগের সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে বড়সড় বেশকিছু ব্যর্থতা। অন্যদিকে বিভিন্ন সংকটে সংগঠনটির নিস্ক্রিয়তাও বেশ প্রশ্নবিদ্ধকর।

 

১. আমেরিকার ইরাক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরব লীগের নিরব ভূমিকা সংগঠনটির মূল কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আর্থিক, রাজনৈতিক কিংবা সামরিক কোনপ্রকার সহায়তাই আরব লীগ গ্রহণ করেনি। সম্ভবত বুশ প্রশাসনের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে আরব লীগ অবস্থান নিতে সাহস করেনি।

২. এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে ন্যাটো বাহিনী লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চালালে আরব লীগ সেখানেও নিরব ভূমিকা পালন করে। প্রতিনিয়ত সংকটে আক্রান্ত রাষ্ট্রের প্রতি উদাসীনতা সংগঠনটিকে নিস্ক্রিয় করে তুলেছে।

৩. সিরিয়ান গৃহযুদ্ধ ও আসাদ ইস্যু

গৃহযুদ্ধের প্রথমদিকে, ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে আরব লীগ de-escalation পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশকিছু পর্যবেক্ষক দল সিরিয়ার অভ্যন্তরে পাঠায়। আসাদ যদিও আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনপ্রকার সংঘাতের দিকে তিনি যাবেননা; তারপরেও পর্যবেক্ষক দল চারিদিকে আসাদের সৈন্য, ট্যাংক এবং যুদ্ধ বিমানের সক্রিয়তা এবং ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভীত হয়ে পড়ে। এরপর আরব লীগ, আসাদ কে সিরিয়ার বৈধ সরকার হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়ে, আসাদ সরকারের প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে। এর পরিবর্তে, সিরিয়ার বৈধ সরকার হিসেবে আরব লীগে প্রতিনিধিত্ব পায় "The national coalition of revolutionary and opposition force"  যা ETILAF নামে পরিচিত।

এই গৃহযুদ্ধ ইস্যুতে আরব বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়কাল এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেবল বাড়তে থাকে।

দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর, আরব লীগ গত ১৯শে মে, ২০২৩ সালে আসাদ কে আবারো সিরিয়ার বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এবং আসাদ ৩২তম আরব লীগের সম্মেলনে যোগদান করেন। যা আরব লীগের জন্য অবশ্যই একটি ব্যর্থতার স্মারক।

 

 

মুহাম্মদ ইরফান সাদিক,

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments

Theme images by rajareddychadive. Powered by Blogger.