Header Ads

Header ADS

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা


আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি অনুধাবন ও আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সবচেয়ে বেশি। যদি আরও নির্দিষ্ট করে বলতে হয়, তখন বলতে হবে বিশ্ব ব্যবস্থার একক অর্থাৎ রাষ্ট্র ও অন্যান্য কর্মকের কিভাবে একে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে, কোন কোন নীতি আদর্শ ও আইনি কাঠামোর আঙ্গিকে সে সম্পর্ক পরিচালিত হবে ইত্যাদি রূপরেখা এই সংস্থাগুলো প্রদান করে৷ 

এরূপ বিবেচনায় এভাবেও বলা চলে যে এই সংস্থার আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠিত হবে বা তার পুন:বিন্যাস ঘটবে। এসব বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কে, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রভাব ও ভূমিকা মৌলিকত্ব লাভ করেছে। 

১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফিলিয়া চুক্তির আদলে আধুনিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে। এই রাষ্ট্রের সমন্বয়েই রচিত হয় আন্তর্জাতিক সিস্টেম। তবে যে যুদ্ধ বিগ্রহ বা ধর্মের দোহাই দিয়ে শোষণ লাঘবের উদ্দেশ্যে যে রাষ্ট্রের সৃষ্টি, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখন্ডতা নিশ্চিত করনের অজুহাতের বা প্রয়োজনে পরবর্তী দুই শত যুদ্ধ বিগ্রহ আরও বৃহৎ আকার ধারণ করে। মানব জীবন আরও অতিষ্ঠ ও জটিলতায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। 

এহেন প্রেক্ষিতে শিল্প বিপ্লবের সূচনা বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়াদিও প্রাধাণ্য পেতে শুরু করে। এই অর্থনৈতিক স্বার্থকে বাস্তবায়নে যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ লক্ষনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে এমন একটা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যখন অর্থনীতি নির্ভর যে আন্তর্জাতিক পরিবার তৈরি হয়েছে তার ক্রমাগত চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রের বাহিরেও নতুন কোন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন দেখা দেয়। 

এভাবেই অর্থনৈতিক লাভের আশায় রাষ্ট্রের মাঝে সহযোগিতার ধারণা বিকশিত হতে শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে উনবিংশ শতকের শেষের দিকে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে “...” যাত্রা শুরু করে। এভাবেই আন্তর্জাতিক পরিক্রমার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের সাথে সাথে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ভব ঘটতে থাকে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থা কী? 

‘International organisation is a process; international organisations are…. a phase of that process……based primarily upon…..the organizational efforts in which governments participate’ (Claude 1964: 4) 

আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে অথবা কোন অ-রাষ্ট্রীয় কর্মকের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া এক বিধিবদ্ধ কাঠামো। এই কাঠামো কিছু রীতিনীতির আলোকে তৈরি হয়। ফলে, এই কাঠামোয় অর্থাৎ সংস্থার সদস্যদের এই কাঠামো নির্দেশিত বিধিমালাকে অনুসরণ করতে হয়। এবং অনুসরণের লক্ষণ হিসেবে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলীকেও সে বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করা।

বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পরিক্রমায় দুইয়ের অধিক রাষ্ট্র নিয়ে আইনসিদ্ধভাবে গঠিত নানান সত্ত্বার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ফলে, যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলা হয় তুমি বা তোমরা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম বল, বস্তুত, তারা শুধু একটাই না, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটা লিস্টও বলে দিতে পারে। 

হয়তো তারা জাতিসংঘ দিয়ে শুরু করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়ে ন্যাটোতে গিয়ে থামে। অথবা, তারা এই লিস্টে রেড ক্রস, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অথবা গ্রীন পিসের নাম যুক্ত করতে পারে। কারণ, তাদের নজরে আন্তর্জাতিক সংস্থার কোন কমতি নেই, যা ক্রমাগত বাড়ছে। 

তবে, পরিস্কার ভাষায় বললে, সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাই কিন্তু একইধাচের আন্তর্জাতিক সংস্থা নয়! যেমন ধরুন জাতিসংঘ ও গ্রীনপিস সংগঠন, উভয়ের ধরনে, গরনে ও লক্ষ্যে ভিন্নতা আছে। 

আধুনিক আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রধানত দুই সারিতে ভাগ করা যায়: আন্ত:সরকারি সংস্থা (Intergovernmental Organisations) এবং বে-সরকারি সংস্থা (Nongovernmental Organisations)। এছাড়াও, বে-সরকারি সংস্থাও দুই ধাচের: দেশীয় বে-সরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থা। 

বস্তুত, এই ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সংস্থার আবির্ভাব গত বিংশ শতকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রকৃতিকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকৃতি: 

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকৃতি অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক সংস্থা অধ্যায়নের সবচেয়ে জটিল ধাপ। আসলে কখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আদতেই একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হয়ে ওঠে? এই প্রশ্নের উত্তরের প্রয়োজনে আমাদের আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকার দুটিকে বিস্তারিত আকারে আলোচনা করতে হবে। 

আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা: 

আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা হওয়ার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বা যোগ্যতা রয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম:

রাষ্ট্রগুলো আইনসিদ্ধ উপায়ে কোন চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদনের সাপেক্ষে এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করবে। 

তিন অথবা ততোধিক রাষ্ট্র এই চুক্তি বা এগ্রিমেন্টের পক্ষ হবে। এবং

এই চুক্তির আদলে যে কার্যক্রম তৈরি হবে তা বাস্তবায়নে ও সে বাস্তবায়নকে চলমান রাখতে একটি স্থায়ী নিবাস বা সদর দপ্তর স্থাপিত হবে। 

UIA এই তিনটি শর্ত বিবেচনায়….  সং্খ্যক সংস্থাকে আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও, এই তিনটি শর্তের বাহিরেও আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা হওয়ার কিছু আনুষঙ্গিক শর্ত রয়েছে। 

সেক্ষেত্রে সংস্থার সনদের কথা বলা যেতে পারে যেখানে সংস্থার যাবতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে, এবং এগ্রিমেন্ট অনুমোদন অনুযায়ী সদস্যরা সেই সংস্থার সনদে বর্ণিত বিষয়াদি অনুসরণ করে।

এছাড়াও, এই সংস্থার সনদ কার্যকরী হতে সনদে নির্দিষ্ট সং্খ্যক দেশের সদস্যপদ ও অনুমোদনকে গুরুর দেওয়া হয়। ফলে, আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ সীমিত থাকে, যদি না সেই সংস্থার সনদে ছাড় দেওয়া থাকে।  

তবে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনায় রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশী হয়। যথা:

প্রতিটি সংস্থা কোন নির্দিষ্ট সমস্যা বা সংকট বা শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, সদস্য রাষ্ট্রগুলোও সে শূন্যতা বা সংকটের মুখোমুখি হয়। ফলে, সকলের মাঝে সংকট প্রশমন বা শূন্যস্থান পূরণের তাড়না তৈরি হয়। সেই তাড়না বা আকাঙ্ক্ষার বশেই রাষ্ট্র ঐ সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ করে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থার সনদের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য এখানে প্রতি সদস্যকে সমান ও সমমর্যাদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সমমর্যাদাপূর্ণ হওয়ার অন্যতম সুবিধা হল এখানে প্রতিটি সদস্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে, বাস্তবতায় কিছুটা ব্যতিক্রম থাকতে পারে। যেমন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক রয়েছে। তবে, এ বিতর্ক আন্তর্জাতিক সংস্থায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণকে দমাতে পারেনি। 

আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক সংস্থার সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় বা পরিষদ৷ সংস্থাভেদে পরিষদের পরিষদ ও কাজের ধরনে ভিন্নতা থাকে। তবে, তার পরিষদে সংস্থার কার্যক্রম নির্ধারিত হয়। পরিষদের দক্ষতা ও স্বচ্ছতার উপর সংস্থার ভাবমূর্তি ও অর্জন অনেকাংশে নির্ভর করে৷ 

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি হল এই সংস্থাগুলো আইনসিদ্ধ উপায়ে প্রতিষ্ঠিত কর্মক। আইনসিদ্ধ কর্মক একারণে যে কোন সংস্থার আইঞ্জ বিধিমালা সদস্যদের আইনি বিধিমালা থেকে ভিন্ন। 

এছাড়াও, অ-রাষ্ট্রী কর্মক হিসেবে সংস্থাগুলো নিজেদের পরিষদের নিয়ম অনুসারে চলে, চাইলে অন্য কোন আন্ত:সরকারি সংস্থার অথবা বে-সরকারি সংস্থার সাথে অংশ হতে পারে। এই অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সদস্যদের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। সংস্থাগুলো আইনসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান (International Legal Personality) হওয়ায় নিজেরাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। 

যেমন: জাতিসংঘ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাকে (WHO, IMO, WMO, ILO ইত্যাদি) নিজের শাখা হিসেবে গ্রহণ করেছে। গ্রহণের কাজটি করেছে জাতিসংঘের সেক্রেটারিয়েট। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সদস্যদের অনুমোদনের প্রয়োজন পরে নি। 

আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থা: 

আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থার থেকে আলাদা। যেখানে আন্ত:সরকারি সংস্থাগুলো আইনসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও তাদের সে আইন প্রণয়নের পৃথক ক্ষমতা রয়েছে, আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থার সে বিবেচনায় তেমন ক্ষমতা নেই। 

বস্তুত, বে-সরকারি সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক পরিক্রমায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করে থাকে। ফলে, আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থার কার্যক্রম ও ভূমিকা আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। যদিও ক্ষেত্রবিশেষ কিছুটা মিল রয়েছে। 

আন্ত:সরকারি সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থাও কিছু শর্তের বা বৈশিষ্ট্যের আঙ্গিকে চেনা যায়। এক্ষেত্রে, Union of International Association (UIA) আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থার সাতটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে। যথা: 

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: INGO সংস্থার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। পাশাপাশি, সংস্থাটিকে তিনের অধিক রাষ্ট্রে কাজ করতে হবে। যেমন: ব্রাক।

সদস্য: কমপক্ষে যে তিনটি দেশে সংস্থাটি কাজ করবে সেখানে ব্যক্তি বা সমন্বিত দল সংস্থার সদস্যপদ লাভ করতে পারবে। সদস্যপদ লাভের পর সদস্যরা সংস্থার নিয়ম মাফিক ভোট দিতে পারবে। 

কাঠামো: সংস্থাটির কাঠামো হবে আইনসিদ্ধ বা ফর্মাল। যাতে সংস্থার সদস্যরা সংস্থার পরিচালনা পরিষদের উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারেন। এছাড়াও, এই সংস্থার একটি স্থায়ী সদর দপ্তর থাকবে। 

মানব সম্পদ: সংস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগে কোন স্থানীয় নীতি গ্রহণ চলবে না। উপরন্তু, যে যে দেশে সংস্থাটির কার্যালয় রয়েছে, সেখানে সকল সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। 

আর্থিক সহায়তা: এই সংস্থার আর্থিক সহায়তাও তার সদস্য দেশ, কমপক্ষে তিনটি দেশে যাবে। কোনভাবেই এই অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না, বা এই অর্থের ক্ষেত্রে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকা যাবে না।

পারস্পরিক সম্পর্ক: একটি INGO সংস্থা চাইলে অন্য একটি INGO সংস্থার সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। তবে সে যোগাযোগ বা সম্পর্ক স্থাপন হতে হবে আইনানুগভাবে। 

কার্যক্রম: INGO সংস্থাটি তার সনদ অনুসারে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম ও ভূমিকা :

ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরিক্রমার কেন্দ্রীয় চরিত্র- রাষ্ট্রের একক ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। এই সংস্থাগুলো পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, আঞ্চলিক সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা প্রভৃতি ত্বরান্বিত করার বয়ান তৈরি করে। এই বয়ান একই সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করে। 

বস্তুত, আন্তর্জাতিক সংস্থার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তাহল এটি একটা প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে যাত্রা করে। এর কারিগর রাষ্ট্র নিজেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রকে সফলভাবে তার বৈদেশিক নীতি প্রণয়নে সাহায্য করে, এবং সংঘাতহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সাহায্যে রাষ্ট্রের লাভের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। 

আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্ব কেন এত বেশি? যদি সংক্্ষেপে বলি:

রাষ্ট্রের নানা কাজে এই সংস্থা সাহায্য করে, রাষ্ট্রের স্বার্থ লাভের নিশ্চয়তা দেয়;

বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা ও পারস্পারিক নির্ভরশীলতার ক্ষেত্র প্রসারের দরকার পরে। এই সংস্থা রাষ্ট্রকে সে সুযোগটা করে দেয়।

রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নাগরিক চাহিদা পূরণ সকল রাষ্ট্রের জন্য সহজ না, অধিকাংশের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলো সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে সাহায্য করে যায়।

এই সংস্থাগুলো প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যেখানে পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্র তার সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারের দিকগুলো আলোচনা করতে পারে। 

IGO এর সনদ যেহেতু আইনসিদ্ধ উপায়ে তৈরি হয়ে থাকে, সেহেতু আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সংকট বা সংঘাত নিরসনে অথবা অন্য যেকোনো নেগোসিয়েশনে সেই সনদ একটা বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। 

এছাড়াও, এই সনদে বর্ণিত আইনি ধারা অনুসরণ করে নতুন নতুন অনেক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। যেমন: জাতিসংঘ সনদের বেশ কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে যেগুলো পরবর্তী অনেক নতুন নতুন চুক্তির সূচনায় ব্যবহৃত হয়েছে। বা পরিবেশ ও জেন্ডার কনভেনশনের কিছু ধারা নতুন আইনি কাঠামোয় নতুন করে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে সম্পাদিত বেশিরভাগ চুক্তি বা এগ্রিমেন্টে পরিবেশ ও জেন্ডারের দিকটি উল্লেখ থাকে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রথা হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এটি আন্তর্জাতিক পরিক্রমায় ব্যক্তি বা দলগত মতামতের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে। যেমন পরিবেশগত, যুদ্ধ বিরোধী, গণতন্ত্র প্রভৃতি বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মুভমেন্ট হয়। এই মুভমেন্টের ইস্যুকে আইনি সহায়তা দেয় আন্তর্জাতিক সংস্থা। যেমন: ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলি আগ্রাসন রোধে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার বিভিন্ন আইনি ব্যাক্ষা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই সংঘাত নিরসনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 


এছাড়াও আরও বিবিধ কারণে আন্তর্জাতিক আন্ত:সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পরিক্রমায় ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। (সংক্্ষিপ্ত) 



ভাবানুবাদক:
বদিরুজ্জামান
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 


মূল লেখা: 
From international organisations to international organizations 

by Alasdair Mclean
 

মূল বই:
Issues in International Relations 

Edited by- Trevor C. Salmon

No comments

Theme images by rajareddychadive. Powered by Blogger.