Header Ads

Header ADS

সহজ ভাষায় কূটনীতির পরিচয়: ভূমিকা

          
                        

একটু খোলাসা করে বললে, রাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার তাবৎ কার্যাবলী যে প্রক্রিয়া বা নীতি বা তরীকা অনুসারে চলে তা-ই Diplomacy বা বাংলায় বললে কূটনীতি। এই প্রক্রিয়া রাষ্ট্রকে যেমন তার মিত্রের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার পরিধি প্রসারে সাহায্য করে, সংকট নিরসনে সংঘাতের বদলে কিরূপে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যায় সে তরীকাও বাতলে দেয়।

রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যোগাযোগ, দরকষাকষি, একে অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার, অথবা একে অন্যের সাথে চলমান বা বিদ্যমান সংকট ও পার্থক্য নিরসনে কূটনীতি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। কূটনীতি এক ঐতিহাসিক প্রথা যা মানব সভ্যতার শুরু থেকে চলমান আছে। সাম্রাজ্যবাদের বিকাশের সাথে সাথে কূটনীতির আদর্শ ও পরিধি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেমন ধরুন আফ্রিকা ও এশিয়াকে ঘিরে তৎকালীন ইউরোপীয়ান সাম্রাজ্যবাদীদের ভিতরকার সংকট সমাধানে ১৮১৫ সালের প্যারিস চুক্তি সম্পাদিত হয়। আবার ১৯৬১ সালের কিউবা মিসাইল সংকটের ক্ষেত্রে সোভিয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে দ্বার থেকে বিশ্বকে রক্ষা পায়। 

সাম্প্রতিক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে দূরত্ব কমাতে এবং ইরানের পারমাণবিক শক্তিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহার সংক্রান্ত  পি৫+১ চুক্তি হয়।এই চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০০৬ সাল থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ বজায় রাখে। এই দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে ২০১৫ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় এবং ইরানের উপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রশমিত করা হয়। যদিও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ক্ষমতায় আসার পরপর-ই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পি৫+১ চুক্তি থেকে বের করে নেয় যার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্র চরমভাবে সমালোচিত হয়। 
এভাবেই, ঐতিহাসিক পরম্পরায় কূটনৈতিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান নিয়ামক হয়ে ওঠে।

কূটনীতির কর্মপরিধি: 

যদি আরও নির্দিষ্ট করে বলি, কূটনীতির প্রধান কাজ বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন। উল্লেখ্য, বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়া। বস্তুত, রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাদের বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করে। যদিও কূটনীতিকবৃন্দ কখনো কখনো এই নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা করে থাকে, তবে তা সীমিত পরিসরে। কূটনৈতিকদের প্রধান কাজ বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন, বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ ও নিজ রাষ্ট্রের বিষয় নিয়ে নেগোশিয়েশন বা আলোচনা।

বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় এম্বাসেডর, হাইকমিশনার, মন্ত্রী এবং বিশেষ কূটনৈতিক দূত প্রভৃতি একটি রাষ্ট্রের অফিশিয়াল মূখপাত্র হিসেবে কাজ করে। বর্তমান এ তথ্য-প্রযুক্তির সময়ে, বার্তা বা বিভিন্ন তথ্য সহজে সকলের নাগালে পৌছে যায়। তবে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কিছু বিষয় বা আলোচনা যেমনঃ অস্ত্র বাণিজ্য, সামরিক সহায়তা ইত্যাদি গোপনীয় রাখার প্রয়োজন পরে, সেক্ষেত্রে কুটনীতিক মুখপাত্ররা কুটনৈতিক আদান প্রদানের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে থাকে।

তবে, ফর্মাল বা আনুষ্ঠানিক কূটনীতি উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যোগাযোগের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ ধরণের কূটনীতিতে উভয় দেশের রাষ্ট্রদূত একে অন্যের দেশে সরকারি সফরে যায় এবং সেখানে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারিবিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীর সাথে সাক্ষাৎ করে; উভয় রাষ্ট্রের রাজধানীতে নিজেদের দূতাবাস স্থাপন করে; দূতাবাসের সাহায্যে প্রয়োজনীয় তথ্য নিজ নিজ দেশের সরকারকে পাঠায়; রাষ্ট্রদূতেরা উভয় দেশের বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে রাষ্ট্র প্রধানের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন প্রভৃতি।
 
সাধারণত, সহজ ভাষায় সকলের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি প্রণীত হয়। কিছু রাষ্ট্রের সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে বৈদেশিক নীতি-আদর্শ উল্লেখিত হয়, আবার কিছু দেশের কোন অ্যাক্ট বা সনদ অনুসারে বৈদেশিক নীতি বর্ণিত হয়। তবে, সকলের উদ্দেশ্যে সে সংবিধান বা সনদে বৈদেশিক নীতি কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তার পদ্ধতি বা কর্ম-প্রক্রিয়া উল্লেখিত থাকে না। ফলে, বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে কূটনীতি প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

কূটনীতিকের দক্ষতা কিসে নির্ভর করে? 

একজন সফল ও দক্ষ কূটনীতিকের প্রধান গুণ বিভিন্ন পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটে নিজ দেশের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট হওয়া। উদাহরণ হিসেবে আমেরিকান কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের কথা বলা যেতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধকালে কিসিঞ্জার অন্যতম প্রভাবশালী ডিপ্লোম্যাট ছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের বিস্তার রোধ করা, এবং কমিউনিজমের প্রসারে বাঁধা সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্যে এই ডিপ্লোম্যাট চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তৈরি করেছেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটান, জাপান ও কোরিয়ান উপদ্বীপের সাথে সম্পর্ক উন্নত করেন প্রভৃতি।

এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যখন একজন কূটনীতিককে তার দক্ষতা ও বিচক্ষণতার উপর নির্ভর করতে হয়। সেক্ষেত্রে হয়তো প্রেক্ষাপট প্রয়োজনে সে রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির বাহিরে গিয়েও তার কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কূটনীতির ফলাফলের উপর বেশি গুরুত্ব দেয় এবং কূটনীতিকের নীতির বাহিরে যাওয়াকে ছাড় দেয়।

উদাহরণ হিসেবে পি৫+১ চুক্তির কথা আবারও উল্লেখ করা যেতে পারে। ইরানের বৈদেশিক নীতির বাহিরে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফ বিশ্বের পাঁচ বৃহৎশক্তির সাথে চুক্তি করে। ইরানের সরকার পরবর্তীতে জাভেদ জারিফের কূটনৈতিক প্রচেষ্ঠার ইতিবাচক ফলাফল, অর্থাৎ, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিপরীতে ইরানের উপর থেকে পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধ প্রশমনের প্রস্তাব মেনে নেয়, এবং জাভেদ জারিফকে সম্মাননা প্রদান করেন।   

তবে কিছু রাষ্ট্র এমনও রয়েছে যারা তাদের বৈদেশিক নীতিকে হুবুহু অনুসরণের জন্য কূটনীতিকদের নির্দেশনা দেয়। এমন ক্ষেত্রে ডিপ্লোম্যাটদের কর্ম পরিধি অনেক সঙ্কুচিত হয়ে যায়। দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সাহায্যে রাষ্ট্রীয় বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা তাদের চালিয়ে যেতে হয়। যেমন রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিকরা তাদের রাষ্ট্রীয় পলিসির অনুসারে তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কূটনীতির উদ্দেশ্য:

 সাধারণত, কূটনীতির দুটি চেহারা রয়েছে। এক দিক থেকে কূটনীতিকে একটি বাহনের সাথে তুলনা করা হয়। এই বাহনে চড়েই একটি রাষ্ট্র বহির্বিশ্বে তার যোগসূত্র তৈরি করে, বিশ্ব দরবারে তাকে মেলে ধরে ও তার দুশ্চিন্তাকে তুলে ধরে। একই সাথে কূটনীতির প্রধান লক্ষ্য থাকে জাতীয় স্বার্থের প্রতিযোগিতায় নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থকেও যথাসম্ভব নিশ্চিত করা।

যদি অন্যভাবে বলি, কূটনীতির উদ্দেশ্য বিশ্ব ব্যবস্থাকে ঠিক রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা। কূটনীতি এমন একটি হাতিয়ার যা অন্য রাষ্ট্রের সাথে বৈরতার সম্পর্ক বৃদ্ধির বদলে সু-সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করে। একজন কূটনীতিককে অধিকাংশক্ষেত্রে ভারসাম্যনীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়। অর্থাৎ, একদিকে তিনি বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের স্বার্থ আদায়কে গুরুত্ব দেন, অন্যদিকে তিনি অপর রাষ্ট্রের সাথে সংঘাত বা যুদ্ধে এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালান।             
  দূতাবাসের কূটনৈতিক কাজ প্রধানত তিনটি:

১। তথ্য সংগ্রহ (Intelligence gathering):

একটি দূতাবাসের অন্যতম প্রধান কাজ স্বাগত বা হোস্ট রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক বিষয়াদির তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য ও তার দেশ সম্পর্কে তাদের চিন্তা, রাষ্ট্রের স্থানীয় অর্থনীতি হালচাল, বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা প্রভৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এই তথ্যের আলোকে হোস্ট রাষ্ট্রের সাথে ঐ মূল রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে কী কোন পরিবর্তন আসবে কী না তা বিবেচনা করবে।

যেমন শেখ হাসিনা আমলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতা, ন্যায় বিচারের অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রভৃতি তথ্য যখন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠায়, সে তথ্য বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বাণিজ্যের বাহিরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেওয়াকে তাদের বৈদেশিক নীতি করে। আসলে, কূটনীতির দুনিয়ায় দূত বা দূতাবাসের চোখ দিয়েই রাষ্ট্র হোস্ট রাষ্টকে দেখে, দূত বা দূতাবাসের শোনা কানেই রাষ্ট্র শোনে। এটাই কূটনীতির প্রথা।    

২। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উন্নয়ন (Image management):

কুটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি প্রসার প্রচেষ্টা চালানো, অর্থাৎ, তার রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাষ্ট্রের বিভিন্ন তথ্য দ্রুত ছড়ায় এবং সে তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্যদের তার রাষ্ট্র সম্পর্কে নতুনভাবে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। তাই, রাষ্ট্রের কূটনৈতিক জনসংগযোগের অন্যতম লক্ষ্য এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, এবং সেই কাজটি করে যায় কূটনীতিকরা। এই লক্ষ্যে দূতাবাসের একটা বড় দায়িত্ব থাকে হোস্ট রাষ্ট্রের মিডিয়াতে বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজ দেশের যাবতীয় নেতিবাচক দিকগুলোকে গোপন করে ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় বয়ান প্রচার করা। 

৩। বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন (Policy implementation): 

কূটনীতিকরা প্রায়শই হোস্ট রাষ্ট্রে তার দেশের হয়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের বিষয় রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমনঃ কূটনীতিকরা হোস্ট রাষ্ট্রের সাথে সামরিক সহযোগিতা ও সামরিক ব্যবহারে আন্তর্জাতিক আইনের অনুসরণ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা, বৈদেশিক আর্থিক সাহায্য সঠিকভাবে বন্টন ও সমন্বয়, উভয় দেশের মাঝে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা প্রভৃতি কাজ করে।  

প্রথাগত কূটনীতিতে অনাগ্রহ: 

কিছু বিশেষজ্ঞের ভাষায়, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সময়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষক পাওয়া রাষ্ট্রদূতদের (Formal Ambassadors) গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। একদা যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব দুর্গম ও সময় সাপেক্ষ ছিলো, কূটনীতিক বা রাজদূতদের চতুর ও গোপনীয় কার্যক্রমের উপর ঐ রাজ্যের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন নির্ভর করতো। দূতের কাজের জন্য তারা লম্বা সময়ে অন্য রাজ্যে অবস্থান করতো, তার নিজ রাজ্যের সাথে যোগাযোগের সুযোগও কম থাকত।

এক্ষেত্রে, মোগল আমলে ভারত বর্ষের ইউরোপীয়ন দূতদের কথা বলা যায়। তারা সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসতেন, এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জাহাজ মারফৎ নিজ নিজ সাম্রাজ্যে পাঠাতেন। আবার বাংলার সুলতানি আমলে ইবনে বতুতা বা প্রাচীন ভারতের মেগাস্থানিসের কথা বলতে পারি। এরা পরিদর্শকের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ দেশের দূতের ভূমিকাও পালন করতো।

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এই দূরহ কাজ হাতের নাগালে চলে এসেছে। এখন সরকার প্রধানেরা বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে একে অন্যের সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে চট জলদি যোগাযোগ করতে পারেন। এ উদাহরণ আমরা কিউবা সংকটের সময় সোভিয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দেখেছি, এ উদাহরণ কোভিড-১৯ এর সময়ে জুম বা অন্য ভিডিও কনফারেন্সের ক্ষেত্রে দেখেছি। 

বর্তমানের কুটনীতি:

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের মাঝে পরস্পর নির্ভরশীলতা দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আঙ্গিকে অন্যান্য অঞ্চলেও আঞ্চলিক মিত্রতা তৈরির আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়। যেমন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান, এবং আফ্রিকায় আফ্রিকান ইউনিয়ন। এরূপ আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে বহুপাক্ষিক মতাদর্শ বা মাল্টিলেটারালিজম। 

এই বহুপাক্ষিক মতাদর্শে রাষ্ট্রের মাঝে সহযোগিতার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বহুপাক্ষিক আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলো পারমাণবিক অস্র বিস্তার রোধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রশমন, বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন এবং সন্ত্রাসবাদের ন্যায় অন্যান্য আন্ত:সীমান্ত ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া প্রভৃতি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বস্তুত, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার আলোকে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় কূটনীতিক কার্যক্রম অতীব দরকারি। 

এই গুরুত্বের দিক বিবেচনায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনীতির ধরণে পরিবর্তন এনেছে যা ক্রমেই ফলপ্রসূ হচ্ছে। এই পরিবর্তনে শুধু রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের দিককে গুরুত্ব দেওয়াই হয় নি, পাশাপাশি রাষ্ট্রের জনগন ও অন্যান্য অংশীদারকে কিভাবে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্ত করা যায় সেদিকও আধুনিক কূটনীতি আলোকপাত করে।  



ভাবানুবাদকঃ 
বদিরুজ্জামান
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়  
মূল বই: 

International Relations: The Key Concepts 
By- Martin Griffith, Tarry O'Callaghan & Steven C. Roach
 
 


No comments

Theme images by rajareddychadive. Powered by Blogger.