Functionalism: আন্তর্জাতিক সংকটের প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান
Functionalism আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম পুরাতন তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়, অর্থাৎ inter-war পর্বে, রাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাজনীতি ও ধারাবাহিক সংঘাতমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার প্রতিক্রিয়ায় এই তত্ত্বের উত্থান ঘটে। তৎকালীন বিশ্ব-বাস্তবতায় প্রথাগত রাষ্ট্র তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও শক্তি-সংগ্রামকেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থায়ীভাবে প্রতিযোগিতা, অবিশ্বাস ও সংঘাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। Functionalism এই প্রচলিত শক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে সহযোগিতানির্ভর বিকল্প পথের প্রস্তাব দেয়।
Functionalism-এর তাত্ত্বিকদের মতে, রাষ্ট্রকে একমাত্র ও প্রাধান্যসম্পন্ন রাজনৈতিক একক হিসেবে দেখা বাস্তবসম্মত নয়; বরং আন্তর্জাতিক সংগঠন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অধিক কার্যকর ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এই তত্ত্ব বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, মানবিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অর্থনীতির মতো অরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনায় জোর দেয়। তাদের ভাষায়, এই অরাজনৈতিক কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ সময়ের পরিক্রমায় রাষ্ট্রের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থায়ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়, যা spillover effect নামে পরিচিত।
সমাজবিজ্ঞানে Functionalism আরও বিস্তৃত অর্থ বহন করে। এখানে সমাজকে একটি জীবন্ত সংগঠনের মতো কল্পনা করা হয়, যেখানে প্রতিটি উপাদান, যেমন প্রতিষ্ঠান (Institutions), নিয়ম (Rules), মূল্যবোধ (Values), ভূমিকা (Roles) ও কাঠামো (Structures), সমাজের নির্দিষ্ট প্রয়োজন পূরণে এবং সামগ্রিক স্থিতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, সমাজের প্রতিটি অংশ একটি নির্দিষ্ট “কার্য” সম্পাদন করে, এবং এসব অংশ পরস্পর-নির্ভরশীলভাবে কাজ করে একটি কার্যকর সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা তৈরি করে।
তবে, Functionalism-এর বিরুদ্ধে সমালোচনারও অভাব নেই। সমালোচকরা মনে করেন, এই তত্ত্ব অতিমাত্রায় স্থিতিশীলতামুখী (static) এবং সমাজে পরিবর্তন, সংঘাত, বিরোধ, ক্ষমতার রাজনীতি বা বিপ্লবের মতো গতিশীল বাস্তবতাকে যথাযথভাবে বোঝাতে পারে না। তাছাড়া, একে পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল, মতাদর্শগতভাবে রক্ষণশীল (conservative) এবং প্রভাবশালী ক্ষমতাকাঠামোকে বৈধতা প্রদানকারী হিসেবেও অনেক সমালোচক দেখে থাকেন।
Functionalism এর ইতিহাসঃ
Functionalism এর ধারণা বোঝার জন্য এর জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎস, দার্শনিক ভিত্তি, সমাজবৈজ্ঞানিক বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রয়োগকে একসাথে বিবেচনা করতে হয়। এটি কোনো একক শাখার তত্ত্ব নয়; বরং জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ব্যাপক ব্যাখ্যামূলক কাঠামো। এর সূচনা প্রাচীন জীববিজ্ঞানের ফাংশনাল চিন্তা থেকে, যেখানে এরিস্টটল জীবের প্রতিটি অঙ্গের নির্দিষ্ট ‘কার্য’ (telos) থাকার কথা বলেন। তিনি মনে করতেন, কোনো অঙ্গের গঠন বোঝার আগে তার কাজ বোঝা জরুরি, এবং জীবদেহ একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। এই ধারণা পরবর্তী সময়ে তিনি সমাজকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখার ভিত্তি তৈরি করেন। গ্যালেন, হার্ভে ও আধুনিক বিবর্তনবিদরা এই কার্যকারণমূলক ব্যাখ্যাকে সামনে রেখেই বিজ্ঞানচর্চা এগিয়েছেন।
উনিশ শতকের শেষে উইলিয়াম জেমস মনোবিজ্ঞানে ফাংশনাল চিন্তাকে নতুন মোড় দেন। তিনি মানসিক প্রক্রিয়াকে একটি অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা মানুষের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। আচরণকে পরিবেশগত চাহিদার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করার এই মানসিক পদ্ধতি পরবর্তীতে সমাজবিজ্ঞানের ফাংশনাল ব্যাখ্যায় গভীর প্রভাব ফেলে। এই চিন্তাধারা সমাজকে এমন একটি কাঠামো হিসেবে দেখতে শেখায়, যেখানে প্রতিটি অংশ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করে।
সমাজবিজ্ঞানে Functionalism এর পূর্ণ বিকাশ ঘটে সমাজকে জীবন্ত জীব (organism) হিসেবে দেখার মাধ্যমে, যেখানে পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা, রাষ্ট্র ও অর্থনীতি ইত্যাদি সব প্রতিষ্ঠান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো কাজ করে সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হলে সমাজ নতুন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। এই তত্ত্বকে সর্বাধিক সংগঠিত রূপ দেন এমিলি ডূর্কহেইম (সামাজিক সংহতি), ট্যালকট পারসন্স (AGIL মডেল) এবং রবার্ট কে. মার্টন (manifest/latent function ও dysfunction), যাদের কাজ Functionalism কে পরিপক্ব সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বে পরিণত করে।
Functionalism আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শাস্ত্রের একটি তত্ত্বের আত্মপ্রকাশ করে, যা প্রধানত দুই বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থেকে উদ্ভূত। বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে দেয় যে জাতীয় স্বার্থ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সামরিক প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টি করে, যা নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীল কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে পণ্ডিতরা লক্ষ্য করেন যে আন্তর্জাতিক সমস্যার একটি বড় অংশ, যেমন স্বাস্থ্য, পরিবহন, বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে থেকেও সমাধানযোগ্য। রাষ্ট্রগুলো যখন এই অরাজনৈতিক, কারিগরি ও মানবিক সমস্যাগুলোতে যৌথভাবে কাজ শুরু করবে, তখন তা আস্থা সৃষ্টি করবে, আন্তঃনির্ভরতা বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনাও কমাবে।
এই তত্ত্বকে সবচেয়ে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করেন ডেভিড মিত্রানি (David Mitrany) তাঁর ১৯৪৩ সালের গ্রন্থ A Working Peace System-এ। মিত্রানি বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান কঠিন, কিন্তু কারিগরি ও মানবিক সমস্যা যৌথভাবে সমাধান করা সহজ, কারণ এগুলো দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি যুক্তি দেন যে কার্যকরী সহযোগিতা (functional cooperation) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতায় রূপান্তরিত হতে পারে, যা “spillover effect” বা রামিফিকেশন ইফেক্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বৃহত্তর স্থিতিশীলতা তৈরি করে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি বা অর্থনীতির মতো অরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে সফল সহযোগিতা রাষ্ট্রগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার পথ দেখাতে পারে।
মিত্রানির ধারণা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামো নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, WHO (World Health Organization) স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তথ্য, গবেষণা এবং ভ্যাকসিন সহায়তা প্রদান করে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তঃনির্ভরতা তৈরি করে; ICAO (International Civil Aviation Organization) বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখে; FAO (Food and Agriculture Organization) খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে। এই সংস্থাগুলো মূলত রাজনৈতিক নয়, বরং কার্যকরী প্রয়োজনের ভিত্তিতে কাজ করে এবং রাষ্ট্রগুলোকে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতায় আবদ্ধ করে।
পরবর্তীতে ইউরোপীয় সংহতির প্রাথমিক ধাপ, European Coal and Steel Community (ECSC) এ মিত্রানির ফাংশনাল ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়। এখানে কয়লা ও ইস্পাত উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে আস্থা তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে অর্থনীতি, ভিসা, শ্রম নীতি এবং আইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) জন্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Functionalism তত্ত্বটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সহযোগে নির্মিত। যথাঃ
ক। কর্মভিত্তিক স্বাভাবিক সহযোগিতা (Functional Cooperation)
Functionalism-এর সবচেয়ে বড় মৌলিক উপাদান হলো functional cooperation, অর্থাৎ এমন একধরণের সহযোগিতা যা রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তা থেকে জন্ম নেয়। স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ, যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, বিমান চলাচল বা খাদ্য নিরাপত্তার মতো খাতে সমস্যাগুলি স্বভাবতই আন্তঃসীমান্ত (অর্থাৎ কোন একক রাষ্ট্রের সীমানায় নির্দিষ্ট নয় এবং কোন এক রাষ্ট্র একা সেগুলোর সমাধান করতে পারে না)। এজন্য রাষ্ট্রগুলো বাধ্য হয়ে যৌথ তথ্য-উপাত্ত ভাগ করে, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় করে, গবেষণা শেয়ার করে এবং সমন্বিত নীতি গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে যেমন COVID-19 এর সময়ে ভ্যাকসিন গবেষণা, তথ্য প্রচার, রোগ শনাক্তকরণ কৌশল এবং স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সমন্বয় করে। স্বাস্থ্য সংকট রাজনৈতিক মতবিরোধের বিষয় নয়; তাই রাষ্ট্রগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করতে বাধ্য হয়। Functionalism এর এটাকেই “স্বাভাবিক অরাজনৈতিক সহযোগিতা non-political cooperation” হিসেবে দেখে।
খ। সহযোগিতার বিস্তার (Spillover Effect)
Functionalism-এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো spillover effect। এর মতে, যদি রাষ্ট্রগুলো একটি কারিগরি/অরাজনৈতিক খাতে সফলভাবে সহযোগিতা শুরু করে, তাহলে সেই সহযোগিতা ধীরে ধীরে অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়ে, কারণ সমস্যা ও সমাধানগুলো পরস্পর-সংযুক্ত। এই আন্তঃনির্ভরতার (Inter-dependency) কারণে রাষ্ট্রগুলো আরো খাতে যৌথ নীতি গ্রহণে আগ্রহী হয়। যেমনঃ ইউরোপে কয়লা-ইস্পাত সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত European Coal and Steel Community-এর (ECSC) লক্ষ্য ছিল শুধু অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তৈরি করা, যেন যুদ্ধ এড়ানো যায়। কিন্তু এই সহযোগিতা পরবর্তীতে অর্থনীতি, আইন, ব্যাংকিং, ভিসা, চলাচল, কৃষি ও পরিবহন—প্রায় সব খাতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
গ। আন্তর্জাতিক সংস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকা (International Organizations)
Functionalism এই দাবি করে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা শুধু সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং তারা রাষ্ট্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ কর্মক (actors)। যেহেতু তারা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় জড়ায় না, তাই তারা নিরপেক্ষ, কারিগরি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে ফোকাস করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিয়ম তৈরি করে, মান নির্ধারণ করে, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয় এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটায়, যা রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজভিত্তিক একতা তৈরি করে। যেমনঃ ICAO (International Civil Aviation Organization) বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা, রুট ম্যানেজমেন্ট, সিগনালিং সিস্টেম, পাইলট প্রশিক্ষণ এবং বৈশ্বিক উড্ডয়ন মান নির্ধারণ ইত্যাদি কাজে এই সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে সাহায্য করে। এসব কাজ সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিগত, যা রাজনৈতিক বিরোধের জায়গা হ্রাস ঘটায়।
ঘ। কারিগরি সমস্যাকে অরাজনৈতিক করে দেখা (Depoliticization of Issues)
Functionalism বলে যে রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা তখনই সহজ হয় যখন আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক বিবাদ বা রাষ্ট্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা না হয়। বরং এই তত্ত্বমতে, এই সমস্যাগুলোকে technical issues (কারিগরি সমস্যা) হিসেবে দেখা উচিত, যা বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং প্রশাসনের দ্বারা পরিচালিত হবে। এই depoliticization বা অরাজনৈতিকীকরণ রাজনৈতিক উত্তেজনা কমায় এবং সমাধানকে দ্রুত করে। যেমনঃ ইন্টারনেট ডোমেইন নেম, আইপি ঠিকানা বরাদ্দ, সার্বজনীন প্রযুক্তিগত মান—এসব পরিচালনায় ICANN (Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) কাজ করে। বিশ্বে হাজার হাজার রাষ্ট্রীয়-পারস্পরিক প্রযুক্তি কোম্পানি একসাথে ICANN-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব কমে এবং প্রযুক্তিগত মান বজায় থাকে।
৫. মানবকল্যাণমূলক সহযোগিতা (Human Welfare)
Functionalism-এর আরেকটি মূল ধারণা হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত “মানবকল্যাণ”। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই Functionalism তত্ত্বের ভাষায় রাষ্ট্রগুলোর এসব খাতে সফলতা অর্জনে পারস্পারিক সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক। যেমনঃ FAO (Food and Agriculture Organization) খাদ্য সংকট, কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টি, বীজ উৎপাদন পদ্ধতি, দুর্ভিক্ষ পূর্বাভাস ও কৃষি খাতে গবেষণার মাধ্যমে বৈশ্বিক সহযোগিতা তৈরি করে। এই ধরনের কাজ সরাসরি মানবজীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখে, যা Functionalism-এর মূল দর্শনের অংশ।
Neofunctionalism কী?
Neofunctionalism হলো Functionalism-এর একটি উন্নত ও সংশোধিত রূপ, যা বিশেষভাবে regional integration (আঞ্চলিক একীকরণ) তত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এটি মূলত European Integration (ইউরোপীয় একীকরণ) প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য উদ্ভাবিত হয়, যা পরে European Union (EU) এর ভিত্তি স্থাপন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সামাজিক বিজ্ঞানের বিকাশে প্রতিটি তত্ত্ব, চিন্তাবিদ এবং তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
Functionalism, যার সূচনা হয়েছে Herbert Spencer এর প্রাথমিক ধারণা থেকে এবং পরে সম্প্রসারিত হয়েছে Émile Durkheim, Talcott Parsons ও অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে, ক্রমে একটি প্রভাবশালী তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে Functionalism এর কিছু সীমাবদ্ধতা, যেমন সংস্কৃতি-ভিত্তিক সামাজিক আচরণের তুলনামূলক বিশ্লেষণের অসুবিধা, Neofunctionalism এর বিকাশের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছে।
Neofunctionalism এর মূল ধারণা হলো যে প্রতিটি একীকরণ (Integration) পূর্ববর্তী একীকরণের ফলস্বরূপ ঘটে। এটি Functionalism এর শক্তিশালী কাঠামোগত দিকগুলোকে আধুনিক, সমালোচনামূলক ও তাত্ত্বিক প্রবণতার সঙ্গে সংহত করার চেষ্টা করে। Talcott Parsons এর কাজের প্রতি পুনরুজ্জীবিত আগ্রহ, প্রথমে জার্মানি এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে, এই তত্ত্বের বিকাশকে প্রভাবিত করেছে।
Neofunctionalism আঞ্চলিক একীকরণে রাষ্ট্রগুলোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বা আঞ্চলিক ভূখণ্ডের গুরুত্বকে পুনরায় উপস্থাপন করে।
বিশেষভাবে ইউরোপীয় একীকরণে, Neofunctionalism একটি বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এটি দেখায় কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পারস্পরিক ক্রিয়া, নীতি-নির্ভর পরিবর্তন এবং spillover প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একীকরণ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, European Coal and Steel Community (ECSC) থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে বাণিজ্য, পরিবহন, কৃষি ও অভিবাসন নীতির মতো অন্যান্য খাতে বিস্তৃত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রগুলো মূলত অরাজনৈতিক ও কারিগরি সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে ধাপে ধাপে একীকরণের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
Neofunctionalism শুধু একটি তাত্ত্বিক কাঠামো নয়; এটি বাস্তব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে একীকরণের গতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে সহায়ক। এটি দেখায় যে আঞ্চলিক সংস্থাগুলো কেবল রাষ্ট্রগুলোর যোগফল নয়, বরং নিজের স্বতন্ত্র ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণের সুযোগ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কার্যকরী সহযোগিতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে বৃহত্তর একীকরণের দিকে এগিয়ে যায়।
Neofunctionalism এর প্রেক্ষাপট
Neofunctionalism ইউরোপীয় একীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। এটি বিশেষভাবে ইউরোপে একীকরণ নিয়ে অধিরাষ্ট্রবাদী (supranational) এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় (intergovernmental) দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিতর্ক বোঝাতে সাহায্য করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একীকরণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কারণ (causal factors) একে অপরের সঙ্গে মিলে ধাপে ধাপে একীকরণকে গঠন করে।
এই তত্ত্বের বিকাশে Jeffery Alexander-এর মতো তাত্ত্বিকরা structural functionalism এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং তা অন্যান্য সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করেছেন। Neofunctionalism সমাজের বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের কাজের ধরন (interaction) গুরুত্ব দিয়ে দেখায়। এটি সমাজে কাজ (action) এবং শৃঙ্খলা (order) দুইটির ওপরই মনোযোগ দেয়। তত্ত্বটি বলে যে একীকরণ একটি সম্ভাবনা (possibility) হিসেবে ঘটে, স্থায়ী সত্য হিসেবে নয়। এছাড়াও, এটি সমাজের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করে, যা কাজের অভ্যন্তরীণ পার্থক্য (differences within action systems) থেকে উদ্ভূত হয়।
‘Spillover’ ধারণা এবং নিওফাংশনালিজমের বিকাশ
‘স্পিলওভার’ (Spillover) ধারণা Neofunctionalism তত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই ধারণা বলে যে, এক খাতে সফল সহযোগিতা ধীরে ধীরে অন্যান্য খাতেও বিস্তার লাভ করে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একটি অর্থনৈতিক বা কারিগরি খাতে একীকরণ শুরু হলে, তা ধীরে ধীরে সামাজিক, পরিবেশগত বা রাজনৈতিক একীকরণেও প্রভাব ফেলে।
Neofunctionalism মূলত ফাংশনালিজমের কিছু মূল ভাবনা গ্রহণ করেছে, যেমন প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব, কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কেন ও কীভাবে একীকরণ ঘটে তা ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী। এটি দ্রুতগতির একীকরণ পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে না পারলেও, ধীরে ধীরে এবং প্রাকৃতিকভাবে (organic) একীকরণের প্রক্রিয়াকে বোঝাতে সক্ষম। ফলে, Neofunctionalism আধুনিক আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক একীকরণের বিশ্লেষণে অত্যন্ত কার্যকর তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।
Earnest B. Haas এবং নিওফাংশনালিজমের ভিত্তি
নিওফাংশনালিজমের উত্থানের সঙ্গে Earnest B. Haas এর নাম ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি ইউরোপীয় একীকরণের গতিশীলতা বোঝাতে এই স্বতন্ত্র তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ১৯৫০-এর দশকের শেষের ইউরোপীয় একীকরণের প্রাথমিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে হাস এমন একটি মডেল তৈরি করেন, যা ক্রমবর্ধমান একীকরণের মাত্রা ও প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে অধিরাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর (supranational bodies) ভূমিকা ব্যাখ্যা করে।
Neofunctionalism কয়েকটি মৌলিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা প্রতিটি বিস্তারিতভাবে নিম্নরূপ:
ক. এক খাতের সহযোগিতা নতুন খাতের সহযোগিতার জন্ম দেয়ঃ যখন দেশগুলো কোনো নির্দিষ্ট খাতে সহযোগিতায় সম্মত হয়, তখন সেই সহযোগিতা অন্যান্য সম্পর্কিত বা অনুরূপ খাতে নতুন সহযোগিতার প্রেরণা তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, European Coal and Steel Community (ECSC)-এর মাধ্যমে কয়লা ও ইস্পাত শিল্পে সহযোগিতা শুরু হলে, পরে এটি বাণিজ্য, কৃষি, পরিবহন এবং অভিবাসন নীতিতে সম্প্রসারিত হয়। অর্থাৎ, একটি প্রাথমিক একীকরণ ধাপে ধাপে অন্যান্য ক্ষেত্রেও একীকরণের জন্য পথ তৈরি করে।
খ. অর্থনৈতিক একীকরণ অংশগ্রহণকারীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি করেঃ একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা একীকরণ প্রক্রিয়া শুধু নির্দিষ্ট খাতের সীমাবদ্ধ নয়। এটি অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভ্যন্তরীণ নীতি সমন্বয়কে শক্তিশালী করে। ফলে, একীকরণ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।
গ. অধিরাষ্ট্রীয় সংস্থা ধাপে ধাপে একীকরণকে গভীর ও সম্প্রসারিত করেঃ একীকরণ তদারকির জন্য গঠিত অধিরাষ্ট্রীয় সংস্থা (supranational bodies) ধীরে ধীরে এমন নীতি গ্রহণ করে যা ইতোমধ্যে একীকৃত খাতকে আরও গভীরভাবে একীকরণে রূপান্তরিত করে এবং নতুন খাতেও সম্প্রসারণ ঘটায়। এই প্রক্রিয়ায় সংস্থা নিজস্ব স্বার্থও এগিয়ে নিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, European Commission বা European Court of Justice-এর নীতিমালা ও কার্যক্রম ধাপে ধাপে ইউরোপীয় একীকরণকে স্থায়িত্ব এবং বিস্তৃততা প্রদান করেছে।
নিওফাংশনালিজম: সাফল্য, সমালোচনা ও প্রাসঙ্গিকতা
Neofunctionalism সাধারণভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং একীকরণ কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত। এটি একীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি শক্তিশালী যৌক্তিক কাঠামো প্রদান করে, বিশেষ করে ইউরোপীয় একীকরণের প্রাথমিক ধাপগুলো ব্যাখ্যা করতে সহায়ক। তবে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে একীকরণ উদ্যোগের ব্যর্থতা এবং ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ইউরোপীয় একীকরণের স্থবিরতা এই তত্ত্বের কিছু মৌলিক অনুমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নিওফাংশনালিজমের একটি প্রধান সমালোচনা হলো তত্ত্বটি একীকরণ প্রক্রিয়াকে (Integration Process) প্রায় স্বয়ংক্রিয় বা স্বতঃসিদ্ধ (automatic) হিসেবে ধরে নেয়। এর ফলে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক রক্ষণশীলতা (protectionism), জাতীয় স্বার্থ এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতাগুলো যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শাস্ত্রের Realism তত্ত্বের সমর্থকরা মনে করেন, একীকরণ মূলত রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও সরকারসমূহের কৌশলগত আন্তঃক্রিয়ার ফল। তাদের মতে, জাতীয় স্বার্থই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালিকা শক্তি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অধ্যয়নে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিহার্য, এবং নিওফাংশনালিজমের অভ্যন্তরীণ-নির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি একে সীমিত করে।
ইন্টারগভর্নমেন্টালিস্ট পণ্ডিত স্ট্যানলি হফম্যান (Stanley Hoffman) যুক্তি দেন যে নিওফাংশনালিস্টরা ইউরোপীয় একীকরণের গতিপথ সম্পর্কে অতিরিক্ত আশাবাদী ছিলেন। Neofunctionalism ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটের অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলোর ওপর বেশি জোর দিয়ে বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনীতি ও তৃতীয় পক্ষের (third-party actors) প্রভাবকে উপেক্ষা করেন, যা অনেক সময় একীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
তবুও, Neofunctionalism এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্লেষণের একটি শক্তিশালী এবং প্রাসঙ্গিক তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে টিকে আছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপীয় একীকরণের পুনরুজ্জীবনের ফলে তত্ত্বটির প্রাসঙ্গিকতা নতুনভাবে আলোচিত হয়েছে। যদিও Neofunctionalism একীকরণের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করতে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর এবং স্থবিরতা বা পশ্চাদপসরণ ব্যাখ্যা করতে কিছুটা দুর্বল, তবুও এটি আধুনিক ইউরোপীয় একীকরণ বিশ্লেষণে একটি অপরিহার্য “useful analytical framework” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার
Functionalism উনবিংশ শতকের শুরুতে নতুন তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে যাত্রা করে। ১৯৬০-এর দশকে সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত সমাজের সামষ্টিক কাঠামো এবং উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যাখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু ব্যক্তির ভূমিকা ও কার্যকারণ তুলনামূলকভাবে কম বিবেচনা করে। Neofunctionalism তত্ত্বটির (Functionalism এর) সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতে চেষ্টা করে। এটি একীকরণকে (Integration) একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখায়, যেখানে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নীতি একে অন্যের সঙ্গে ক্রিয়াশীলভাবে যুক্ত থাকে।
নিওফাংশনালিজমের মূল ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্পিলওভার’ (spillover), যার মাধ্যমে প্রাথমিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক একীকরণে পরিণত হওয়ার পথ প্রসস্থ করে। সমালোচকদের ভাষায়, নিওফাংশনালিজম সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দেয়, ফলে চলমান পরিবর্তনের দিকটি অনেকটা উপেক্ষিত থাকে। তা সত্ত্বেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একীকরণের (European Integration) বিশ্লেষণে এখনও Functionalism ও Neofunctionalism একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত।


No comments